অপহরণের মামলার সূত্র ধরে বটিয়াঘাটায় উদ্ধার হওয়া মাথাবিহীন এক নারীর মৃতদেহের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), খুলনা। দীর্ঘ চার দশকের তদন্ত ও ৪০ দিনের কঠোর অভিযানের পর আসল আসামি মোঃ লালন গাজীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানাধীন সাজিয়াড়া গ্রামের বাসিন্দা শামিম ফকির (৩০) তার মা সালেহা বেগমের অপহরণের অভিযোগে একই গ্রামের মোঃ লালন গাজীকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করে পিবিআই খুলনার এসআই (নিঃ) রেজোয়ান। তদন্ত চলাকালে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানা যায়, সালেহা বেগম দীর্ঘদিন ধরে পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী থানাধীন এলাকায় বসবাস করছিলেন। তবে ১৯ আগস্ট ২০২৫ সন্ধ্যার পর তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে জানা যায়, সালেহা বেগম ও আসামি লালন গাজী একত্রে ইন্দুরকানীর চাড়াখালী গ্রামে একটি ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে থাকতেন।
প্রাথমিক তদন্তে আরও নির্দেশ করে, ১৯ আগস্ট সন্ধ্যায় ভিকটিম ও আসামি খুলনার বটিয়াঘাটা থানাধীন গজালিয়া গ্রামে যাওয়ার জন্য একত্রে বাসা থেকে বের হন। পরের দিন, অর্থাৎ ২০ আগস্ট বিকেলে, বটিয়াঘাটার সুরখালী ইউনিয়নের সুখদাড়া গ্রামে ঝপঝপিয়া নদী থেকে মাথাবিহীন নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃতদেহের পরিচয় শনাক্ত না হলে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং বটিয়াঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
পরে, পিবিআই খুলনার ক্রাইমসিন টিমের সংগৃহীত ছবি ও আলামত দেখানোর পর পরিবারের সদস্যরা মৃতদেহটি সালেহা বেগমের বলে ত্বরিতভাবে শনাক্ত করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত পিবিআইয়ের বাক্যবদ্ধ হলে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে।
উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই প্রেমিকার হত্যার প্রধান আসামি লালন গাজী পলাতক থাকেন। পিবিআই’র প্রধান মোঃ মোস্তফা কামাল, এ্যাডিশনাল আইজিপি’র তত্ত্বাবধানে, এবং খুলনা জেলা অফিসের ইনচার্জ পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন, পিপিএম-সেবা’র নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালায়। অবশেষে, ১৮ ডিসেম্বর রাতে সুনামগঞ্জের হালুয়াঘাট বাজার সংলগ্ন খেয়াঘাট এলাকা থেকে আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
আটকের জিজ্ঞাসাবাদে, আসামি স্বীকার করে যে, ভিকটিমের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১৪ লাখ টাকা উত্তোলন করে নেওয়া হয়েছে এবং বিয়ের চাপের কারণে সে হত্যার পরিকল্পনা করে। ১৯ আগস্ট বিকেলে, বটিয়াঘাটার পার বটিয়াঘাটা খেয়াঘাট এলাকায়, সহযোগীদের সহায়তায় সালেহা বেগমের হত্যা করে তার মাথা বিচ্ছিন্ন করে মৃতদেহটি ঝপঝপিয়া নদীতে ফেলে দেয়। পুলিশের হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদে, আসামি তার দেখানো অনুযায়ী গজালিয়া গ্রামে তার আত্মীয়ের বাড়ির বিভিন্ন স্থানে সালেহা বেগমের ব্যবহৃত মালামাল ও পরিধেয় বস্ত্র উদ্ধার করেন। বর্তমানে, আসামিকে পুনরায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে, এবং এই ঘটনায় জড়িত অন্যান্য অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply